ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ, এর সংক্রমণ থেকে বাঁচার 100% কার্যকরী উপায়

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ
ad

আসসালামু আলাইকুম! গুড সলিউশন লাইন হেলথ টিপস এর আরো একটি ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে “ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ কি, এবং এর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা থাকার উপায়” তাহলে চলুন আর অপেক্ষা কেন, আমরা ব্ল্যাক ফাঙ্গাশ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় গুলো জেনে নেই।

করণীয় কি?

পত্রিকায় হয়তো অনেকেই পড়েছেন যে ভয়ঙ্কর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন করোনা রোগীরা। প্রথমেই বলে রাখা ভাল এই সংবাদে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা কোনো নতুন রোগ নয়, এটি বহু পুরনো একটা রোগ। খুব অল্প মানুষেরই এই ধরনের রোগ গুলো হয়ে থাকে। আবার আমরা এটাও জানি কি কি কারনে এই রোগ হয়।

  • এই রোগটির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে “Mucormycosis.”

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগটা কেন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে?

কয়েক প্রকারের ফাঙ্গাস আমাদের শরীরের ভিতরে ঢুকে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই ফাঙ্গাস গুলো আমাদের চারপাশে যে পরিবেশ! মাটি, পচনশীল বস্তু এমনকি বাতাসেও থাকতে পারে। এই ফাঙ্গাস গুলো পরিবেশ থেকে অনেক ভাবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।

কিন্তু দেখা যায় যত জনের শরীরে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঢুকে সবার এই রোগ হয় না। কারণ আমাদের শরীরের রোধ প্রতিরোধ যে ক্ষমতা আছে সেটা ফাঙ্গাসের সাথে যুদ্ধ করে, অধিকাংশ সময়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধ জিতে যায়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কে ধ্বংস করতে পারে, শরীরে বাসা বাঁধতে দেয় না, রোগ সৃষ্টি হয় না।

যদি কোন কারনে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ দুর্বল হয় তাহলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন রোগটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অল্প দুর্বল থাকে তাহলে যে ব্লাক ফাঙ্গাস জিতে যায় তা না।

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল মারাত্মক ভাবে দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস জিতে যেতে পারে এবং এই রোগটা তার শরীরে দেখা দিতে পারে। তাহলে এটা বুঝলেন যে যাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ খুব দুর্বল তাদের সরিলে এই রোগটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেন এবং কারা অতি দুর্বল হতে পারে?

যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল থাকে, এই অবস্থায় যদি কভিড-১৯ এ এফেক্টেড হয় তাহলে তাকে “স্টেরয়েডের” নামে একটা ওষুধ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই ওষুধ টা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে দেয়। স্টেরয়েড ওষুধ টা ডাইবেটিক্স রোগীর ছাড়াও অন্যান্য কোভিড আক্রান্ত রোগীকেও দেয়া হয়! ধারণা করা হচ্ছে সেখান থেকেও এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ!

আশংকার ব্যাপার হলো অনলাইনে বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ঘুরে বেড়াতে দেখেছি ভাইরাল হতে দেখেছি যেখানে স্টেরয়েড ওষুধের নাম দেয়া আছে চাইলেই ওষুধটি আপনারা কিনে খেতে পারবেন। কিন্তু কোভিড রোগীদের স্টেরয়েড দেয়ার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন কোভিড একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়! রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে তখন স্টেরয়েড রোগীর জীবন বাঁচায়।

অক্সফোর্ড এর যে গবেষণা থেকে আমরা জানি যে এই ওষুধ টা জীবন বাঁচায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমায় সেই একই গবেষণায় আমরা দেখেছি যে করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে এই ওষুধটি দিলে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়তে পারে। সুতরাং মৃধা কারোণা রোগীকে এই ওষুধ টা দেওয়া একদমই ঠিক না। কিন্তু অনলাইনে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রেসক্রিপশনে স্টেরয়েড এর কথা বলা হচ্ছে মৃধা করোণা রোগীর জন্য। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ! 

সতর্কতাবাণী!

আপনাদেরকে জানিয়ে দেই, স্টেরয়েড নামে যে সকল দোকানে বিক্রি করা হয় তা আপনারা নিচের পিকচারটি ভালো করে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন।

উপরে যে ওষুধের লিস্ট দেখালাম সেটি দয়া করে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ক্রমেই খাবেন না। একজন চিকিৎসক আপনার শরীরের কন্ডিশন বুঝে যদি এই ওষুধগুলো খাওয়ার পরামর্শ দেন তখনই কেবল মাত্র এগুলো খাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ গুলো কখনোই খাবেন না। স্টেরয়েড ছাড়াও আরো কয়েকটা কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী, হার্ড, ল্যান্স, লিভার অথবা কিডনি ফ্যাকশন যাদের হয়েছে।

এখন স্টেরয়েড খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া ছাড়া আর কি কি করতে পারেন?

অনেক ধুলোবালি হচ্ছে এমন জায়গা গুলো এড়িয়ে চলা, মাটি পরিষ্কারের কাজ করলে হাতে গ্লাভস পড়ে নেয়া, আর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া তো রয়েছেই। অপ্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাবেন না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবেন।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ!

এই রোগের লক্ষণগুলো বলে দেই যাতে করে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। এই রোগের জন্য চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায় ততই ভালো।

মুখের একপাশ ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া কিংবা অভস হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা হওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, বস্তু একটা জায়গায় দুইটা দেখা, চোখের পাতা নিচে নেমে আসা, ঝাপসা দেখা, জ্বর, মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া, চোয়াল ব্যথা, চিকবনে ব্যথা, দাঁতে ব্যথা, দাঁত খুলে খুলে আসা, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, নাক দিয়ে কালছে কিছু অথবা রক্ত বের হওয়া, নাকের উপর কালো কালো দাগ হওয়া অথবা মুখের উপর কালো দাগ হওয়া।

নিরাপদে থাকবেন সুস্বাস্থ্য কামনা করছি আপনাদের জন্য। আর আমাদের এই আর্টিকেল থেকে আপনার কোন উপকার হয়ে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিতে ভুলবেন না।

https://www.youtube.com/watch?v=XcN1TlrtvnU

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *